রাজশাহীর বাগমারায় চড়া সুদে টাকা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এক ভ্যানচালক। স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ী মোজাহার আলী ওরফে হারুনের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের ঝাড় গ্রামের বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম (পিতা সাহার আলী) জানান, ২০১৮ সালে একই গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী মোজাহার আলী ওরফে হারুনের কাছ থেকে মাসিক ২০ শতাংশ সুদে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। তখন শিকদারী বাজারের কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের তারিখবিহীন সাদা চেকে সই করতে বাধ্য করা হয় তাকে।
প্রথমদিকে নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধ করলেও ২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তিনি অর্থকষ্টে পড়েন এবং সুদ শোধ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হারুন শারীরিক ও মানসিকভাবে মমিনুলকে নির্যাতন শুরু করেন। পরে ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চেকে নিজের ইচ্ছেমতো চার লাখ টাকা লিখে ব্যাংকে জমা দেন। চেকটি ডিজঅনার হলে একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী-২ আদালতে ১৩৮ ধারায় মামলা করেন তিনি।
পরবর্তীতে মামলাটি দায়রা আদালতে বদলি হয়ে ৪৫৫/২৪ নম্বরে রূপান্তরিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি রাজশাহীর যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত মমিনুলকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেও মমিনুলের দাবি, এরপরও হারুন তাকে নানা ভাবে হুমকি ও নির্যাতন করতে থাকেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামে গিয়ে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার দাবি,দাদন ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক।
যোগাযোগ করা হলে মোজাহার আলী হারুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি আদালতে আশ্রয় নিয়েছি। আদালত যা করবে, আমি তা মেনে নেব। চেকে যে অঙ্ক লেখা আছে, আমি সেটাই পাওয়ার কথা।”
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন,এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।