মা-বাবা নেই, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। আপন চাচা-চাচি ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করায় এখন রাস্তার ধারের ধুলোবালি আর পলিথিনই চার সহোদরের শেষ আশ্রয়। গত ১০-১৫ দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ ভবন সংলগ্ন ফ্লাইওভার এলাকায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মানিক চান, সুমন, রাজ ও জুবাইর।
সাজানো সংসার থেকে ফুটপাতে > |
এই চার ভাইয়ের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। তাঁদের ভাষ্যমতে, এক ইলেকট্রিক দুর্ঘটনায় বাবা কাজল এবং মরণব্যাধি ব্রেনের সমস্যায় মা লাভলী বেগম মারা যান। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই নেমে আসে নিষ্ঠুর আঘাত। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের আপন চাচা ও চাচি পৈত্রিক বাড়ি-ঘর দখল করে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন।
উদ্বাস্তু হয়ে পথে পথে ঘুরে অবশেষে চার ভাই আশ্রয় নিয়েছেন রাজশাহীর এই ফ্লাইওভারের নিচে। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ :
"আমাদের সব ছিল, আজ আমরা রাস্তার ফকির। কেউ আমাদের দিকে তাকাচ্ছে না। এভাবে কতদিন থাকা যায়?" — ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলছিলেন বড় ভাই মানিক চান।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও পথচারীরা জানান, চারজন ছেলেকে এভাবে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে অনেকেই ব্যথিত হচ্ছেন। তবে স্থায়ী কোনো সমাধান না হলে তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।
এখন প্রয়োজন প্রশাসন, স্থানীয় সমাজসেবী সংগঠন কিংবা কোনো বিত্তবান হৃদয়ের মানুষের এগিয়ে আসা। একটুখানি সহানুভূতি ও আইনি সহায়তা হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে তাঁদের হারানো ঠিকানা, সুস্থ করে তুলতে পারে সুমনকে।
কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা সংগঠন কি এই চার ভাইয়ের দায়িত্ব নিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন?