বাংলাদেশ, শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

ছুটির দিনে জমজমাট ইদের কেনাকাটা

স্বপ্নের বাংলাদেশ বার্তাকক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

published: 07 March, 2026, 03:24 AM

ছুটির দিনে জমজমাট ইদের কেনাকাটা

মুসলিম ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ইদুল ফিতর। ইদ ঘিরে নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী কিংবা শিশুদের ছোটখাটো চাহিদা- সব মিলিয়ে জমে ওঠে কেনাকাটার উৎসব। রাজশাহীর আরডিএ মার্কেট থেকে ফুটপাত সব যায়গায় ছিল ক্রেতাদের উপচে ভিড়। তুলনামূলকভাবে কম দামে পছন্দের পণ্য পাওয়ার আশায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে এই ফুটপাতের বাজার।




রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় অনেক বেশি। বিশেষ করে শাড়ি, থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। পাশাপাশি প্রসাধনী দোকানগুলোতেও ক্রেতা সমাগম দেখা গেছে।




মহানগরীর আরডিএ মার্কেটে রোজা শুরুর পর থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে মার্কেট ও আশপাশের ফুটপাতজুড়ে ভিড় চোখে পড়ে। আর ইফতারের পরপরই দোকানগুলোতে ক্রেতাসমাগম আরও বেড়ে যায়। 




বিক্রেতারা জানান, প্রথম রোজায় সপ্তাহে সাধারণত মানুষ বাজার যাচাই-বাছাই করেন। কোথায় কী ডিজাইন এসেছে, দাম কেমন এসব খোঁজ-খবর নেন। এখন তো ঈদের বেশি দিন বাকি নেই, তাই কেনাকাটা বাড়ছে। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারীদের থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকার মধ্যে।




দেশীয় কটন ও লনের চাহিদা বেশি। জমকালো কাজের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। শাড়ি মিলছে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কাপড় ও কাজের ধরনভেদে দাম বাড়ছে। তবে মাঝামাঝি দামের কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। এ ছাড়া পুরুষদের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ১-৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।




বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও কিনছে বিভিন্ন কালার ও ডিজাইনের পোশাক। সঙ্গে মেকআপ ও জুতার চাহিদাও রয়েছে অনেক। শিশুদের ফ্রক, লেহেঙ্গা, শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি সেটের আধিক্য আছে। শিশুদের পাশাপাশি ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই। শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়াতে ও ঈদের ছুটি শুরুর আগেই তাই কেনাকাটা সেরে ফেলছেন তারা। শিশুদের পোশাকের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বাচ্চাদের ফ্রক, পাঞ্জাবি-পায়জামা সেট ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। 




বিক্রেতারা জানান, ছেলে শিশুদের জামা কাপড় বিভিন্ন দামের মধ্যে রয়েছে। ২ হাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন দামে পাওয়া যাচ্ছে এসব পোশাক পোশাকের পাশাপাশি শিশুদের জুতার চাহিদাও অনেক। স্যান্ডেলপট্টিতে দেখা যায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় মিলছে স্নিকার্স, স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা। 




কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় পোশাকের দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তবে নতুন ডিজাইন ও কালেকশনের কারণে অনেকেই আগেভাগেই কিনে রাখছেন, যেন শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়ানো যায়। 




রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থী ফাতেমা জানান, সামনে সপ্তাহে বাড়িতে চলে যাব, তাই নিজের পাশাপাশি পরিবারের জন্যও কিছু উপহার নিয়ে ফেলছি। পরে সময় পাব না। আবার ভিড় তো আছেই। 




দোকানিরা বলছেন, ঈদের বাকি দিনগুলোতে ভিড় আরও বাড়বে। ইফতারের পর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকছে। অনেক দোকানেই বিশেষ ছাড় ও অফার দেওয়া হচ্ছে ক্রেতা আকর্ষণে। কাপড় কিনতে আসা সাজনা বশির বলেন, ঈদের শেষে ভিড় বাড়বে, তাই আগেই কেনাকাটা করতে এসেছি। এখন বেশ কিছু কেনার টার্গেটেই এসেছি। আর যদি কিছু প্রয়োজন হয় পরে আবার কিনব। 




আরডিএ মার্কেটের দোকানী আলী হোসেন বলেন, বিক্রি মাত্র শুরু হচ্ছে। এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়বে আশা করছি। এবার বিক্রি নিয়ে আমরা আশাবাদী। সব মিলিয়ে ইদ কেনাকাটার আমেজ তৈরি হতে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর বাড়তে থাকা ভিড় ও রঙিন পোশাকের সমারোহে জমে উঠছে রাজধানীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই বাজার।




বিক্রেতারা বলছেন, আগের তুলনায় এবার খুব একটা বাড়েনি দাম। শিশুদের ফ্রক ২ থেকে ৫ হাজার, ওয়েস্টার্ন ২ থেকে ৩ হাজার, লেহেঙ্গা ৪ থেকে ৯ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ছেলে শিশুদের পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজারের মধ্যে।




ইদ সামনে রেখে মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকছে নগরীর ছোট-বড় মার্কেট ও অভিজাত শপিং মলগুলো। ইদ যতই ঘনিয়ে আসছে, দিনভর কেনাকাটার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্রেতা সমাগম।

National