চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে গত কয়েক দিন ধরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে উঠলে জেলার বিভিন্ন পাম্পে তেল নিতে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও পরিবহন চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে যানবাহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত মের্সাস হোসেন ফিলিং স্টেশন এবং মহানন্দা বাস কাউন্টার এলাকায় অবস্থিত এমদাদ ফিলিং স্টেশন-এ তেল নেওয়ার জন্য শত শত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে সদর উপজেলার পাশাপাশি জেলার বেশিরভাগ পাম্পে তেলের সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহী আবু পলাশ বলেন, ইফতারের আগে অনেকক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা পেশাজীবী মানুষ, মোটরসাইকেলই আমাদের প্রধান বাহন। তাই বাধ্য হয়েই তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আরেক চালক সাফিকুল ইসলান অভিযোগ করেন, অনেক পাম্পে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোথাও ১০০ টাকা, কোথাও ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। আবার কিছু পাম্পে সম্পূর্ণ বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তার মতে, এভাবে সীমিত তেল দিলে সমস্যা আরও বাড়ছে। প্রশাসনের দ্রুত নজর দেওয়া দরকার।
তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সংকটের মূল কারণ সরবরাহ কমে যাওয়া। এমদাদ পেট্রোল পাম্প-এর ম্যানেজার শামসুল আলম জানান, আগে ডিপো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যেত। কিন্তু এখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকরাও আতঙ্কে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিতে আসছেন, যার ফলে দ্রুত মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে মের্সাস হোসেন পেট্রোল পাম্প-এর মালিক জাহাঙ্গীর জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় তারা প্রায় তিন হাজার লিটার করে পেট্রোল ও অক্টেন এবং সাড়ে চার হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছিলেন। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই ডিজেলের মজুত শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে সীমিত পরিমাণ পেট্রোল ও অক্টেন বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, সরবরাহ কমার পাশাপাশি কিছু জায়গায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হতে পারে। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে গণপরিবহন চলাচলসহ দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।