বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

খনন হচ্ছে বারনই নদী

স্বপ্নের বাংলাদেশ বার্তাকক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

published: 17 March, 2026, 06:07 AM

খনন হচ্ছে বারনই নদী

রাজশাহীসহ আরও দুই জেলায় সাপের আকৃতি নিয়ে আছে বারনই নদী। এই নদীর উৎপত্তি পত্নীতলা উপজেলার আত্রাই নদ থেকে। মান্দার বিল ও তানোরের শিব নদ পেরিয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলার শিতলাই এলাকায় জামদহ নদীতে মিশেছে। এরপর নওহাটা এলাকায় এটি বারনই নামে পরিচিতি পেয়েছে। বারনই রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, দুর্গাপুর, বাগমারা এবং নাটোরের নলডাঙ্গা ও সিংড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলনবিলে গিয়ে মিশেছে।    




এবার এই নদী খনন করছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড। রাজশাহীর তিনটি উপজেলায় খনন হবে এই নদী। মোট খনন করা হবে ১৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাগমারা, পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা পড়েছে। মূলত নদীতে সারা বছর পানি ধরে রাখতে নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হবে। 




রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এই নদীটি ৯৬ কিলোমিটার প্রস্থ। এর মধ্যে খনন হচ্ছে ১৩ কিলোমিটার। এই নদী পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পর্যন্ত খনন করা হবে সাড়ে ৪ কিলোমিটার। পুঠিয়ার বাম তীর থেকে বাগমারা ডান তীরে খনন করা হবে। 




এছাড়াও দুর্গাপুর উপজেলার কিসমতগণকৈড় থেকে বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা পর্যন্ত সাড়ে আট কিলোমিটার খনন করা হবে। বামতীরে দুর্গাপুর ডানতীরে বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা পর্যন্ত। শিলমাড়িা থেকে গোয়ালকান্দি পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে ১৬ কোটি ৬৬ হাজার টাকা। এবং কিসমতগণকৈড় থেকে তাহেরপুর পৌরসভা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন ২০ মিটার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ মিটার প্রস্থে এবং দেড় থেকে ৩.০০ মিটার গভীরতায় এই খনন করা হবে। 




এ নদীতে সারা বছর পানি ধরে রাখতে নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারের কাজ হচ্ছে। ইতিমধ্যে দরপত্রের প্রক্রিয়াও শেষ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা দেশের সার্বিক অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। আবার নদীর পানি কমে যাওয়ায় ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে মাছের উৎপাদন ও সেচ কার্যক্রম। 




‘রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ-দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এটিও ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বারনই নদীর প্রবাহপথে ২৯ কিলোমিটার খনন করা হবে। এছাড়া ৬৩ কিলোমিটার নদী দূষণমুক্তকরণ, ৯২ কিলোমিটার অবৈধ দখর উচ্ছেদসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।




১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ-ভারতের মুখ্য পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উইলিয়াম উইলসন হান্টার তার ‘স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্ট অব বেঙ্গল’ গ্রন্থে বলেছেন, রাজশাহীর যে কয়টি নদীর নাব্যতা আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে নাব্য হচ্ছে বারনই। বারনইয়ের নদীপথেই বাংলার সুবাদার ইসলাম খান ১৬০৮ সালে নওগাঁয় এসেছিলেন। সেই বারনই এখন একটি ‘বিষাক্ত’ নদ।




দুর্গন্ধে নদীর কাছেই যেতে পারে না মানুষ। রাজশাহী সিটি করপোরেশন, নওহাটা পৌরসভা, মোহনগঞ্জ হাট, ভবানীগঞ্জ পৌরসভা, তাহেরপুর পৌরসভা, নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভা এবং আশপাশের ইউনিয়নগুলোর বর্জ্য এই নদে ফেলা হয়। বর্তমানে নদটি দখল ও দূষণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। একসময় এই নদী ছিল দুই জেলার কৃষক, জেলে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও সংস্কৃতির অংশ।




নদী রক্ষা আন্দোলনকারীরা বারনই নদকে টিকিয়ে রাখতে হলে জরুরি ভিত্তিতে দূষণ বন্ধ, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন, নদীপথ পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে এসেছেন। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য এবং পরিবেশ সবই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তারা।




রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী  আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, বারনই খননের অনুমোদন অনেক হয়েছে। দরপত্রও শেষ হয়েছে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। নদীর যেসব যায়গায় নাব্যতা কম সেসব যায়গা খনন করা হবে। এছাড়াও মন্ত্রণালয়ে বেশ কিছু নদী ও খাল খননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো আছে। সেগুলোৈ এখনও অনুমোদন পায়নি।

National