বাংলাদেশ, শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
logo

রাজশাহী সার্কিট হাউসের শতবর্ষী বৃক্ষ রক্ষায় তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান


ইফতেখার আলম বিশাল published:  ০৬ অক্টোবর, ২০২৫, ০৩:৫২ পিএম

রাজশাহী সার্কিট হাউসের শতবর্ষী বৃক্ষ রক্ষায় তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

রাজশাহীর সার্কিট হাউস চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষী ও পঞ্চাশোর্ধ বৃক্ষগুলো রক্ষার দাবিতে আজ তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বেলা ১১টায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি-কে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।




স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাজশাহীর চরমভাবাপন্ন আবহাওয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সবুজ বেষ্টনী এবং জলাধার অপরিহার্য। অথচ শহরের এই পরিবেশ রক্ষাকারী উপাদানগুলো একের পর এক ধ্বংস করা হচ্ছে। উন্নয়নের নামে বারবার আঘাত হানা হয়েছে রাজশাহীর প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশে। ঐতিহ্যবাহী, শতবর্ষী বৃক্ষগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, “উন্নয়ন মানেই যেন আজ গাছ কাটা ও কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি করা। এমন অপরিকল্পিত উন্নয়ন শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে ফেলছে। প্রাণ-প্রকৃতি ও অন্যান্য প্রাণীর অধিকার হরণ করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করা হচ্ছে।”




তারা দাবি করেন, টেকসই উন্নয়নই হতে হবে প্রকৃত উন্নয়ন। বিশ্বের বহু দেশে উদাহরণ রয়েছে, যেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে বৃক্ষ রক্ষা করে। সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেই রাজশাহীতেও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা উচিত।




স্মারকলিপিতে উত্থাপিত তিন দফা দাবি হলো:


১. সার্কিট হাউস সম্প্রসারণের জন্য সেখানে থাকা শতবর্ষী ও পঞ্চাশোর্ধ গাছগুলো কাটা যাবে না; বরং তাদের রক্ষা করতে হবে।


২. ভবিষ্যতে রাজশাহী বিভাগে গাছ, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।


৩. যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে পরিবেশকর্মী, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করতে হবে।




এই দাবিগুলোর অনুলিপি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস.এম. তুহিনুর আলম, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোছাঃ তাছমিনা খাতুন (তার পক্ষে সহকারী পরিচালক মো. কবীর হোসেন), রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী এবং গণপূর্ত বিভাগ-১ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেদুল ইসলাম-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন: উন্নয়নকর্মী মো. আফজাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই-৩৬ পরিষদের সভাপতি মাহমুদ জামাল কাদেরী, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)-এর সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক, বেলা’র রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী ওয়ালিউর রহমান বাবু, সেভ ইয়ুথ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টার)-এর সভাপতি সামসাদ জাহান, গ্রীন ভয়েস (রাজশাহী কলেজ শাখা)-এর সভাপতি রাবেয়া খাতুন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম-এর নির্বাহী সদস্য মো. হাসিবুল হাসনাত রিজভি, স্বচ্ছলতা অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মো. ইহতেশামুল আলম জোহা, সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার (রাজশাহী)-এর সভাপতি মো. ইমরুল কায়েস, এবং ০.৬ গ্রাভিটি রাইডার্স-এর সভাপতি মাসুম মাহবুবসহ আরও অনেকে।