নিজস্ব প্রতিনিধি published: ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

বিভাগীয় শহর রাজশাহীকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যমে কাজ করছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। "পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ"—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে মহানগরের ১২টি থানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান
সাম্প্রতিক সময়ে মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে আরএমপি 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ফলে মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে পাড়া-মহল্লায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি
রাজশাহীকে একটি 'স্মার্ট সিটি' হিসেবে নিরাপদ রাখতে পুরো শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট অনলাইনে গুজব ছড়ানো, হ্যাকিং এবং ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া 'হ্যালো আরএমপি' অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা এখন সহজেই তাদের অভিযোগ ও তথ্য পুলিশকে জানাতে পারছেন।
যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
শহরের ক্রমবর্ধমান যানবাহন সামাল দিতে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ কঠোর তদারকি করছে। হেলমেট পরিধান নিশ্চিত করা এবং যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে, যা শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মানবিক পুলিশিং ও জনসম্পৃক্ততা
শুধুমাত্র অপরাধ দমন নয়, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতেও আরএমপি পিছিয়ে নেই। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে আনতে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে।
আরএমপি কমিশনারের বার্তা: কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজশাহীবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একটি নিরাপদ ও শান্তির শহর হিসেবে রাজশাহীর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে আরএমপি’র প্রতিটি সদস্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাজশাহী গড়তে পুলিশের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।