বাংলাদেশ, রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
logo

ডিমলায় গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল- মৌমাছির গুনগুন আর কোকিলের কুহুতানে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি


নূর মোহাম্মদ সুমন, নীলফামারী published:  ০৩ মার্চ, ২০২৬, ০২:৪৬ এএম

ডিমলায় গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল- মৌমাছির গুনগুন আর কোকিলের কুহুতানে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি

ডিমলায় বাতাসে ভাসছে আমের মুকুলের মৌ-মৌ সুবাস। প্রকৃতিজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বসন্তের আবেশ। শীতের জড়তা কাটিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে নীলফামারী ডিমলা উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে ছোট-বড় আমগাছে ফুটতে শুরু করেছে নতুন মুকুল। মুকুলের হলুদাভ আভা আর মন মাতানো ঘ্রাণ যেন মধুমাসের আগমনী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে চারদিকে। মৌমাছির গুনগুন আর কোকিলের কুহুতানে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি।


ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে দেখা গেছে বাড়ির আঙিনা,পুকুরপাড় কিংবা রাস্তার ধারে প্রায় সর্বত্রই আমগাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। ধীরে ধীরে প্রতিটি ডাল ভরে উঠছে মুকুলে, বাড়ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।


স্থানীয়দের মতে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর কিছুটা আগেই আমগাছে মুকুল এসেছে। মাঘের শেষ আর ফাল্গুনের শুরুতেই অধিকাংশ গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। যদিও এ উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে বড় আকারে আমচাষ হয় না, তবুও স্থানীয়রা বিভিন্ন হাট-বাজার,স্থানীয় নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় আমগাছ রোপণ করে থাকেন।


স্থানীয়রা জানান, আমের মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা ও অতিবৃষ্টি,ঝড়ের কারণে অনেক সময় মুকুল ঝরে পড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনের সম্ভাবনা ভালো বলেই আশা করছেন তারা।


ডিমলা উপজেলা মধ্যেগযয়াবাড়ি ইউনিয়নের  উকিল পাড়া গ্রামের দুলাল হোসেন, মিজু আহমেদ  বলেন, “এবার অন্য বছরের তুলনায় বেশি মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।”


ডিমলা নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি ঘাটের পাড়, গোদার বাজার গ্রামের সুশান্ত দাস, আয়ুব আলী বলেন, বাড়ির উঠানে ও আশেপাশে কয়েকটি গাছ লাগিয়েছি তবে এবার আবহাওয়া ভালো হওয়ায় আগাম গাছগুলোতে মুকুল এসেছে। আশা করা যায় আবহাওয়া ভালো থাকলে গাছে ফল ভালো পাব। 


ডিমলা সদর ইউনিয়নের কুটিপাড়া ও রামডাঙ্গা গ্রামে আমের বড়বাগানে কেয়ারটেকার মানিক, রফিকুল জানান “অন্যবারের চেয়ে কিছুটা আগেই মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের পরিচর্যা শুরু করেছি। রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পেতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ স্প্রে করছি।”


ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, “এবার আগাম মুকুল এসেছে। কোথাও কোথাও গাছে একসঙ্গে মুকুল ও নতুন পাতা দেখা যাচ্ছে। ডিমলায় নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্যিক আমবাগান নেই। তবে কেউ বাণিজ্যিকভাবে আমচাষে আগ্রহী হলে উপজেলা কৃষি অফিস প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেবে।” তিনি আরো বলেন “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। আমের মুকুল সুরক্ষায় উকুননাশক এভোমেট্রিন ও ছত্রাকনাশক মেনকোজেভ স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলায় মাটি ও আবহাওয়া আমচাষের জন্য উপযোগী। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের সম্ভাবনাও রয়েছে।”