গভীর উদ্বেগ, তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ
MD Shamiul Alim Shawon published: ০৩ জুলাই, ২০২৫, ১০:০৩ পিএম

যুব সংগঠন ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস সারাদেশে অব্যাহত নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনটির মূখ্য প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক ও উন্নয়নকর্মী মো. শামীউল আলীম শাওন গণমাধ্যমগুলোকে ইমেইলে সংগঠনের পক্ষে বিবৃতি প্রেরণ করেন। বিবৃতিতে সংগঠনটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) সম্প্রতি বরগুনা, সুনামগঞ্জ ও ভোলার পাশবিক ঘটনার পাশাপাশি রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যানে গভীর উদ্বেগ, তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছে। স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (LOFS)-এর তথ্যমতে, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই রাজশাহীতে ৯৯ জন নারী ও শিশু হত্যার শিকার, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন ধরনের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো একত্রে একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে এমনটা ব্যক্ত করে বিবৃতিতে সংগঠনটি জোরালো ভাবে বলে যে, দেশজুড়ে নারীদের প্রতি সহিংসতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এক জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।
সংগঠনটি বিবৃতিতে বলে, ইয়্যাস মনে করে -
১. ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন: সুনামগঞ্জে আইনরক্ষাকারী পুলিশ সদস্য এবং ভোলার তজুমদ্দিনে রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ প্রমাণ করে যে, ক্ষমতার বলয়কে ব্যবহার করে অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যখন রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।
২. সংগঠিত অপরাধ ও যৌন সন্ত্রাস: ভোলার ঘটনা প্রমাণ করে, ধর্ষণ এখন শুধু তাৎক্ষণিক লালসার শিকার নয়, বরং চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য একটি সংগঠিত সন্ত্রাসী কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতা সমাজের জন্য এক ভয়ংকর অশনিসংকেত।
৩. গভীর সামাজিক অবক্ষয় ও নতুন সংকট: রাজশাহীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যৌতুক, পরকীয়া, কিশোর গ্যাং-এর উত্থান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং পারিবারিক ও শিক্ষার অবক্ষয় নারী-শিশু নির্যাতনকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ১৯টি আত্মহত্যা এবং ১৭টি ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করে, আমাদের সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে।
৪. সর্বব্যাপী বিচারহীনতার সংস্কৃতি: অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়া এবং সময়মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় নতুন নতুন অপরাধী তৈরিতে উৎসাহিত হচ্ছে। বরগুনার অভিযুক্তের পলায়ন থেকে শুরু করে রাজশাহীর অসংখ্য ঘটনার চাপা পড়ে যাওয়া প্রমাণ করে, অপরাধীরা আইনকে ভয় পায় না এবং রাজনৈতিক বা সামাজিক আশ্রয় পেয়ে পার পেয়ে যাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
এই পরিস্থিতিতে ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) তাদের বিবৃতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিম্নলিখিত দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো :
বিবৃতিতে ইয়্যাস নামের এ যুব সংগঠনটির মূখ্য প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক ও উন্নয়নকর্মী মো. শামীউল আলীম শাওন বলেন,
ইয়্যাস বিশ্বাস করে, শুধু আইন প্রয়োগ করে এই সামাজিক ক্যান্সার নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক এবং রাজনৈতিক জাগরণ। আমরা দেশের সকল বিবেকবান নাগরিক, ছাত্র-যুব সংগঠন এবং সামাজিক শক্তিকে এই পাশবিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। যেকোনো মূল্যে আমরা এই ধর্ষক এবং ধর্ষকায়ন সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।