স্টাফ রিপোর্টার published: ১৯ জুলাই, ২০২৫, ০৮:২৯ পিএম

রাজশাহী নগরীর কাটাখালি শ্যামপুর পাহাড়ি পাড়া এলাকার আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্র সুমাইয়া আক্তার যমুনা ও তার স্বামী নজরুল ইসলাম কে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে তার ক্ষমতার উৎস, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, যমুনা ও নজরুল এক সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ও যমুনা ছিল আওয়ামী লীগের একজন পোস্টধারী নেত্রী। তারা আব্বাসের ক্যাডার বাহিনী ও এজেন্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সময় তারা শ্যামপুর বালুরঘাট পুরাটাই নিজ দখলে রেখেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে যমুনা ও নজরুল গড়ে তুলেছেন বাড়ি, গাড়ি ও নানা সম্পদের পাহাড় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় টাকার বিনিময়ে অসংখ্য মানুষের চাকরি নিয়ে দেন।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পূর্ব মুহূর্তে তিনি মেয়র আব্বাস এর ঘনিষ্ঠ এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হন।
যুবদলের এক নেতা, যিনি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, যমুনা ও নজরুল এর অত্যাচারে আমরা বাড়িতে থাকতে পারতাম না। তাদের বাসা কাটাখালি পৌরসভার শ্যামপুর এলাকায়। তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, অথচ এত অভিযোগের পরও পুলিশ তাকে ধরছে না কেন?”
তার দাবি, যমুনা ও নজরুল এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ রয়েছে, যেগুলোতে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করার সুস্পষ্ট আলামত রয়েছে।
এ বিষয়ে কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যদি যমুনা ও নজরুল এর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকে, তাহলে তা তদন্তের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।”
অন্যদিকে, স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যমুনা ও নজরুল অর্থবলের কারণে তিনি পুলিশি গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, যমুনা ও নজরুল অতীত কর্মকাণ্ড ও সম্পদের উৎস তদন্ত করে তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।
জনগণের প্রশ্ন—একজন ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বছরের পর বছর যেভাবে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন, তা কিভাবে সম্ভব? প্রশাসন কি সত্যিই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে, নাকি ক্ষমতার ছত্রছায়ায় কেউ কেউ আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন? এ বিষয়ে আরও তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হবে পরবর্তী প্রতিবেদনে।