রমজান মাস মুসলিমদের জন্য একটি অত্যন্ত পবিত্রময় মাস। এই মাসে রোজা রাখার মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন এবং আত্মশুদ্ধি লাভ করেন। রোজার আরবি শব্দ ‘সাওম’ যার আভিধানিক অর্থ হলো ‘বিরত থাকা’। রোজা রাখা মূলত সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও পাপকর্ম থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর উদ্দেশ্যে এক ধরনের ইবাদত।
রোজা পালনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যার মধ্যে সাহরি, ইফতার, তারাবিহ নামাজ এবং রোজার নিয়ত ও দোয়া অন্তর্ভুক্ত। সাহরি খাওয়ার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ দোয়া বা নিয়ত নেই, তবে সাধারণ খাবারের জন্য যে দোয়া রয়েছে, তা পড়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবার খাওয়ার সময় এই দোয়া পড়তেন—
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَکَتِ اللَّهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়ালা বারাকাতিল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর নামে খাওয়া শুরু করছি এবং আল্লাহর বরকত প্রার্থনা করছি।
রোজা রাখার জন্য নিয়তও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজার নিয়ত আরবি ভাষায় করা হয়, তবে এটি হাদিস বা ফিকাহ গ্রন্থে বিশেষভাবে উল্লেখিত নয়। তবু অনেক মুসলিম এই নিয়ত পড়েন।
দোয়াটি হলো—হে আল্লাহ! আমি আজকে পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল করো, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
তবে ফরজ বা নফল রোজার নিয়ত আরবিতে হওয়া বাধ্যতামূলক নয়, যে কোনো ভাষায় নিয়ত করা যেতে পারে। যেমন আমি আজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম।
রমজান মাসে ইফতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইফতার করার সময় একটি দোয়া পড়া সুন্নত। দোয়াটি হলো—
اللهم إني لك صمت وبك آمنت وعليك توكلت وإليك فطرت
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি, তোমার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি, তোমার ওপর ভরসা করেছি এবং তোমার দিকে ইফতার করছি।
এই মাসের মাধ্যমে একজন মুসলিম নিজেকে সৎ পথে পরিচালিত করতে পারেন এবং আল্লাহর রহমত লাভের এক অনন্য সুযোগ পান। রোজা শুধু শারীরিক নয়, আধ্যাত্মিক উপকারেও অত্যন্ত লাভজনক।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক