বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির বল এখন রাশিয়ার কোর্টে, পুতিন কি রাজি হবেন?

Publisher and Editor

অনলাইন ডেস্ক :

published: 12 March, 2025, 03:47 PM

যুদ্ধবিরতির বল এখন রাশিয়ার কোর্টে, পুতিন কি রাজি হবেন?

ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য পুনরায় সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে সমর্থন করতে প্রস্তুত বলে কিয়েভ ঘোষণা দেওয়ার পর এই ঘোষণা আসে। 

এদিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার কাছে প্রস্তাবটি নিয়ে যাবে। বলটি এখন মস্কোর কোর্টে।

মস্কো কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নিশ্চিত নয়।

রুবিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের আশা রাশিয়ানরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের জবাব দেবে এবং উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ হবে। এতে করে আমরা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে যেতে পারব, যেটা নিয়ে প্রকৃত আলোচনা চলছে।’

ক্রেমলিন তিন বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করে।

রাশিয়া এখন ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে, এর মধ্যে ক্রিমিয়াও রয়েছে। রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়ের সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চায়।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই এই যুদ্ধ চলতে থাকে, মানুষ মারা যায়, বোমা হামলা হয়, এই সংঘাতে উভয় পক্ষের মানুষ আহত হয়।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তিনি একটি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

পুতিন ২০ জানুয়ারি তার নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছিলেন, ‘স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির প্রয়োজন।’ তিনি আঞ্চলিক ছাড়ের বিষয়টিও উড়িয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবীকৃত এবং আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত চারটি ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণরূপে দাবি প্রত্যাহার করতে হবে। 

অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন-ইউক্রেন আলোচনার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৌদি আরবে ছিলেন, কিন্তু আলোচনায় অংশ নেননি। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক প্রস্তাব, যা কেবল আকাশ ও সমুদ্রপথে লড়াই নয়, সংঘাতের সম্মুখ সারির ক্ষেত্রকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

রাশিয়া কি রাজি হবে?

রুবিও জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে রাশিয়ানদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজের রাশিয়ান প্রতিপক্ষের সঙ্গে দেখা করার কথা এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গেছে। 

গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির আশা করছেন এবং ভেবেছিলেন, তিনি এই সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ইলন মাস্কের টেসলা গাড়ি কম্পানির প্রচারের জন্য হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আশা করি এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হয়ে যাবে।’

এদিকে ইউক্রেনীয় নেতা বলেন, রাশিয়া রাজি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। জেলেনস্কি বলেছেন, ‘চুক্তি কার্যকর হলে এই ৩০ দিনের সময়ের মধ্যে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে শান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য সব দিক থেকে কার্যকরী স্তরে যাওয়ার জন্য সময় থাকবে।’

মঙ্গলবারের যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ বলেছে, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে কাজ চলছে।

এর আগে ট্রাম্প-জেলেনস্কির বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে এমন অপমানজনক পরিস্থিতিতে আগে কোনো দেশের প্রেসিডেন্টের পড়ার নজির নেই। যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেস্কিকে ওই বৈঠকে ডেকে বিশ্ব মিডিয়ার সামনে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা কূটনৈতিক ইতিহাসে বিরল। বৈঠকে তাদের মধ্যে দফায় দফায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। সাংবাদিকদের সামনেই এই বৈঠকে জেলেনস্কিকে একের পর আক্রমণ করে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

এর কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউস এই সংবাদ সম্মেলন বাতিল করার কথা জানায়। এরপর জেলেনস্কি ও তার সঙ্গে থাকা ইউক্রেনের অন্য কর্মকর্তাদের হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সেই ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

তবে ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউসে আবার আমন্ত্রণ জানাবেন। এদিকে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি উভয় দেশ পুনরায় শুরু করেছে।

ইউরোপীয় অংশীদার

জেলেনস্কির একজন শীর্ষ সহযোগী বলেছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিকল্পগুলো মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কিয়েভের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিছু ইউরোপীয় দেশ গ্যারান্টির অংশ হিসেবে প্রয়োজনে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।


সূত্র : রয়টার্স

National