বাংলাদেশ, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

বাল্যবিবাহ বন্ধে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত।

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

published: 18 July, 2025, 11:56 PM

বাল্যবিবাহ বন্ধে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত।

কুমিল্লায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়ন এর বৈলপুর গ্রামে আজ ১৮ জুলাই শুক্রবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেন।

বাল্যবিবাহ হচ্ছে তথ্যের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দেখা যায়, আইন অনুযায়ী ১৮ বছর হওয়ার পূর্বেই সানজিদা আক্তার(১৫) নামের এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করার আয়োজন করা হয়েছে। সানজিদা আক্তার আমিনুল হক ও আয়েশা বেগম এর মেয়ে। 

অভিযানকালে সানজিদা আক্তার এর মাকে প্রাথমিক  জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন তার কন্যার বয়স ১৮ বছর হয়েছে। বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ/এন আইডি/শিক্ষাগত সনদ দেখতে চাইলে তিনি বলেন  সানজিদা আক্তারের বিয়ে নোটারী পাবলিক (স্থানীয়ভাবে কোর্ট ম্যারেজ নামে পরিচিত) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি প্রমাণক হিসেবে নোটারী পাবলিক ডকুমেন্ট দেখায়, যেখানে সানজিদা আক্তারের জন্ম তারিখ ৩১/০৫/ ২০০৬ ইং হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং জানানো হয় যে জন্মসনদ এখনো করা হয়নি।কিন্তু বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কনেকে দেখে বয়স নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় এবং পরিবার তথ্য গোপন করছেন মর্মে তাঁর নিকট প্রতীয়মাণ হওয়ায় অত্যন্ত সুকৌশলে জন্ম নিবন্ধন সনদ উদঘাটন করতে সক্ষম হন, যেখানে পর্যালোচনায় দেখা যায় তার জন্ম তারিখ ৩১/০৫/২০১০ ইং। 

সানজিদা আক্তার এর পরিবার আইন অমান্য করে এবং নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বয়স গোপন করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বাল্যবিবাহ সম্পাদন করার অপরাধে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড তৎক্ষণাৎ অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়৷ উল্লেখ্য দণ্ডিত অর্থদণ্ড তৎক্ষণাৎ আদায় করে সানজিদা আক্তার এবং তার মা আয়েশা বেগম এর যৌথ স্বাক্ষরিত ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়।

National