বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

দুর্নীতি-অনিয়ম সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করিতে হইবে

Publisher and Editor

Publisher and Editor

published: 03 August, 2025, 05:09 AM

দুর্নীতি-অনিয়ম সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করিতে হইবে

উন্নয়নশীল বিশ্বে দুর্নীতি ও অনিয়মের শেষ নাই। এই সকল দেশে পুকুরচুরির ঘটনা ঘটিলেও অধিকাংশ সময় তাহার কোনো প্রতিকার হয় না। বড় বড় দুর্নীতি করিয়াও অনেক সময় দুর্নীতিবাজরা থাকিয়া যায় ধরাছোঁয়ার বাহিরে। কেহ কেহ সরকার পরিবর্তনের পর এই সকল অপকর্মের দায়ে গ্রেফতার হইয়া জেল-জরিমানার মুখোমুখি হইলেও দেখা যায়, আবার পট-পরিবর্তনের কারণে তাহারা খালাস পাইয়া যান। তাহারা তখন ধোয়া তুলসীপাতা হিসাবে আবির্ভূত হন এবং আবার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণ করেন। তাহা হইলে প্রশ্ন হইল, তাহাদের এইভাবে চরিত্র হনন করা হয় কেন? আবার যেই আদালতে তাহাদের একবার দোষী সাব্যস্ত করা হয়, সেই একই আদালত কী এমন জাদুর ছোঁয়ায় তাহাদের নির্দোষ ঘোষণা করিয়া খালাস দেয়?


পট-পরিবর্তনের পর কাহারো খালাস পাইয়া বাহির হইয়া আসিবার অর্থ এই নহে যে, এই সকল তৃতীয় বিশ্বের দেশ দুর্নীতিমুক্ত। বরং এমন সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়, যাহা পড়িয়া শরীর শিহরিত হইয়া পড়ে। লোমহর্ষক এই সকল লুটপাটের কাহিনি বড়ই বেদনাদায়ক। এইভাবে কোনো দেশ ও সমাজ কি চলিতে পারে? বড় সমস্যা হইল, এই সকল দেশে একদা যাহারা দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হন, দণ্ড ভোগ করেন, তাহারাই আবার সেই সকল দেশ ও সমাজের হর্তকর্তা হইয়া যান। জনগণের সম্মুখে তাহাদের চরিত্র তখন ফুলের মতো পবিত্র হিসাবে উপস্থাপিত হয়। এই সকল দেশের জনগণ যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করিতে না শিখিবেন এবং সামাজিকভাবে বয়কট না করিবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই সকল দেশ হইতে দুর্নীতির শিকড় উচ্ছেদ করা যাইবে না। ততদিন পর্যন্ত রাজনীতিতে তাহাদের আবার ফিরিয়া আসাও ঠেকানো যাইবে না। অথচ আমরা সকলেই জানি, এই সকল দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একেক জন প্রার্থী ১০০ হইতে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করিয়া থাকেন। এত টাকা তাহারা পান কোথা হইতে? তাহাদের সবাই কি সোনার চামচ মুখে লইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছেন? তাহাদের সকলের পূর্বপুরুষগণ কি ছিলেন রাজা-বাদশাহ বা জমিদার?


এই সকল দেশে নির্বাচন কমিশন অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয়সীমা নির্ধারণ করিয়া দেন। কিন্তু তাহারা দেখেন না, নির্বাচনে জয়লাভ করিবার জন্য প্রার্থীরা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কত টাকা ঘুষ দেন? প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে দুই হাতে কত টাকা খরচ করেন? কখনো এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হইয়াছে, এমন নজির নাই বলিলেই চলে। তাহা হইলে বোঝা যাইতেছে, এই সকল দেশে ইহার কোনো প্রতিকার নাই। অথচ অনেক দুর্নীতি এই সকল দেশের কোর্ট-কাচারির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাহা প্রমাণিত হয় না, তথাপি স্থানীয় জনগণ ঠিকই জানে, কাহারা সৎ মানুষ আর কাহারা দুর্নীতিবাজ। তাহারা যখন নিজের চোখে দেখেন ভোট কেনাবেচার মহোৎসব চলিতেছে, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচন আয়োজনের সহিত সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সমানতালে ক্রয় করা হইতেছে, তখন তাহাদের বুঝিতে কি আর কিছু বাকি থাকে?


যেহেতু আইন করিয়া এই সকল দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাইতেছে না, তাহা হইলে ইহার সমাধান কী? ইহার একটাই সমাধান- এই সকল দেশের মানুষকে আগে জাগিতে হইবে। তাহাদের ট্যাক্সের টাকা কীভাবে হরিলুট হয়, তাহা আগে উপলব্ধি করিতে হইবে। ইহার পর এই প্রবণতা সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করিতে হইবে। ইহা ছাড়া তৃতীয় বিশ্বের দেশ হইতে দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থ পাচার ইত্যাদি বন্ধ করা সম্ভব হইবে না। যাহারা বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা দ্বারা প্রকারান্তরে লাভবান হয়, তাহারা আমাদের এই সমস্যার সমাধান করিয়া দিবে, এমনটি ভাবিলে আমরা বোকার স্বর্গেই বসবাস করিতে থাকিব।

National